আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট দেখা যাচ্ছে। এসব প্রার্থীদের কারণে চাপে আছে নৌকার মাঝিরা। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে স্বতন্ত্র ও নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জেলার চারটি আসনে নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা থাকলেও লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসন গুছিয়ে নিয়েছে নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। ভোটের আগেই জনমতে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে এগিয়ে রয়েছেন এডভোকেট নয়ন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসন থেকে ভোট করছেন এডভোকেট নয়ন, তার প্রতীক নৌকা। নয়নের সঙ্গে ভোটের মাঠে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল) প্রতীকের সেলিনা ইসলাম। তিনি সাবেক রায়পুর আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের স্ত্রী। তিনিও একটি আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেলিনা ইসলাম তার প্রার্থীতার জটিলতার কারণে শুরু থেকে নির্বাচনের মাঠে ছিলেন না। এরপর মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট থেকে তার প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে সেলিনা ইসলাম রায়পুর আসনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভোট চেয়ে ঘুরে বেড়ান। এ কারণে ভোটের মাঠ নিজের অনুকূলে আনতে নৌকার প্রার্থী এডভোকেট নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে, লক্ষ্মীপুরে সংসদ নির্বাচনের সকল-প্রকার প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। (৭ জানুয়ারি) রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোট উৎসব হবে। এ বিষয়ে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরাইয়া জাহান বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
অপরদিকে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ গরম রাখছেন। নৌকার প্রার্থীরাও সেখানে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে গিয়েছেন সমানতালে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে স্বতন্ত্র ও নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কারণ, স্বতন্ত্র ও নৌকার প্রার্থীরা সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে আছেন নৌকার প্রার্থী ও এমপি আনোয়ার হোসেন খান। তার সঙ্গে ভোট যুদ্ধে লড়াই করছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হাবিবুর রহমান পবন, তার প্রতীক ঈগল। পবনের সঙ্গে রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশাল শক্তি ও সাবেক এমপি আউয়াল কাজ করছে। তবে জনপ্রিয়তায় পবন এগিয়ে আছেন।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীক) এম.এ সাত্তার। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পিংকুর সঙ্গে সাত্তারের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এম.এ সাত্তার গত ৫-৬ বছর আগ থেকে লক্ষ্মীপুর সদর আসনে ব্যাপক কাজ করেছেন। তৃনমূলের বেশিরভাগ নেতা-কর্মীদের সুখ-দুঃখে সহায়তা করছেন তিনি। এম.এ সাত্তার এলাকার শিক্ষক সমাজ, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন থেকে শুরু করে সেলুনে (চুল) কাটার দোকানদারের সঙ্গে পর্যন্ত মতবিনিময় করেছেন একাধিকবার। সাত্তার বিভিন্ন সময় ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এখানে সকল প্রার্থীদের চেয়ে তার জনপ্রিয়তা শীর্ষে।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে ১৪ দলীয় জোট নৌকার মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ভোটের মাঠে ব্যাপক নির্বাচনী জনসভা ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্বতন্ত্র (ঈগল) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি এমপি থাকাকালীন সময় মেঘনা নদীর ভাঙ্গন রোধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহর মতো জনপ্রিয়তা আছে আরেক স্বতন্ত্র (রকেট) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর সাত্তার পালোয়ানের। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। দীর্ঘ দিন ধরে তিনিও ভিটেমাটি রক্ষার্থে রামগতি-কমলনগর বাঁচাও মঞ্চের আহবায়ক হয়ে কাজ করে আসছেন। মেঘনার ভাঙন রোধে টেকসই তীর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন করার দাবিতে শত শত কর্মসূচি পালন করেছেন।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরাইয়া জাহান বলেছেন, সারাদেশে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে এ বার্তা জানানো হয়। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।



