ঢাকাSunday , 28 August 2022
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া ও কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গনমাধ্যাম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. প্রযুক্তি সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনিয়ম-দুর্নীতিতে ভরপুর! রায়পুর মৎস্য প্রজনন-প্রশিক্ষন কেন্দ্র

Link Copied!

রেনু পোনা ওজনে কম দেয়া, ক্রেতাদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতিতে ভরপুর মধ্য-পুর্ব এশিয়া মহাদেশের অন্যতম হ্যাচারি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কার্যক্রম। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ভেস্তে যেতে বসেছে বিপুল সম্ভাবনাময় এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সরকারের উদ্দেশ্য।
জানা গেছে, চাঁদপুর সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্রকল্পের দুই হাজার ৪২৮ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়, দুই হাজার হেক্টর জমির বোরোপিট ও প্রধান খালগুলোতে মাছ চাষের লক্ষ্যে মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র করার উদ্যোগ নেয় সরকার। রুই-জাতীয় মাছের রেণু ও পোনা সরবরাহ করে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ সালে এটি স্থাপন করা হয়। চার কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে করা রায়পুরের মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯২ সালে। ২১ দশমিক ৮৩ হেক্টর আয়তনের এ কেন্দ্রে মোট পুকুর আছে ৭৫টি।
মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র সূত্র জানায়, এখানে ৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদিত পদ রয়েছে। তবে কয়েকদিন আগে নতুন ৮জনসহ কর্মরত আছেন ২৬ জন। বাকি ৫৭টি পদে দীর্ঘদিন ধরে লোকবল নেই। শূন্যপদগুলো হলো বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছয়টি, মৎস্য সম্প্রসারণ সুপারভাইজার চারটি, ক্ষেত্র যোগ গবেষণাগার সহকারী ছয়টি, দক্ষ ফিশারম্যান ছয়টি, অফিস সহায়ক, হ্যাচারি গার্ড, নৈশপ্রহরী চারটি করে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ও উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) একটি করে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৫টিপদশূন্য আছে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতাদের সাথে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার চরম দুর্ব্যবহার, রেনু-পোনা মাছে ওজনে কম দেয়া, যার দায়িত্ব তাকে না দেয়া, একজনের নামের বাসা অন্যজনে দখলে থাকা, দীর্ঘ মেয়াদে একই স্থানে থাকা, মাষ্টাররোলে চাকুরিজীবিদের রাজত্ব, পুকুরে পরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত চুন দিয়ে মা মাছ মেরে তা বাইরে বিক্রি করে দেওয়া ও মাদক-জুয়ার আড্ডা দেয়ার মত ঘটনা ঘটছে। নীজের বাসস্থান ছাড়া অন্য সব ভবনগুলোতে পরিস্কার করা হয়না।
উর্দ্ধতন-বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:- ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান চট্রগ্রামের পটিয়া থেকে রায়পুরে যোগদান করেন। তখন থেকেই শুরু হয় অনিয়ম-দূর্ণীতি আর কর্মকর্তা কর্মচারি- জনপ্রতিনিধিদের সাথে অসদাচারন।
২০১৫ সালে গার্ড মোঃ মফিজ মজুমদার অবসরে গেলেও অপর গার্ড মোঃ সুমনের বাসা ব্যবহারসহ সরকারি সকল কিছু ভোগ করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতাদের কাছে ৫ দিনের পরিবর্তে তিন দিনের রেনু বিক্রি করা হয়। ১২৫ গ্রাম রেনু বিক্রি হলেও খাতায় লিখা হয় আড়াইশগ্রাম। গত এক বছর ধরে ক্যাশিয়ার আবদুর রহিমকে তার দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়ে গার্ডের কাজ করানো ও নকল হিসাব রক্ষককে দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। দায়িত্বরত ব্যাক্তিকে বাদ রেখে মাস্টাররোলে চাকুরি করা আবুল কাশেমকে দিয়ে রেনুর ওজন দেয়া হয়। সে এ চাকুরি করে ছেলেকে বিদেশ ও মেয়েকে বিয়ে দেয়াসহ পৌরসভা এলাকায়  জমি ক্রয় করেছেন। রেনু ওজনে কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের সাথে, গেষ্ট হাউজ বরাদ্ধ চাওয়ায় এসিল্যান্ড এবং স্যার সম্বোধন না করায় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলিমুজ্জামানের সাথে অসধাচারন করে ওই কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রাজিব চন্দ্র দাশ গত ২১ আগষ্ট বদলি হয়ে যান। রিটার্ন ওয়াল নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলদের ও চাটখিলের এক ঠিকাদারের সাথেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এউর্দ্ধতন কর্মকর্তা তার ১২ বছরের চাকুরি জীবনে এসি না পেলেও রায়পুরে সকাল থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত এসি বিলাসে থাকেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় তার সত্যতা পাওয়া গেছে সরজমিন। তার মানুষিক অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মাষ্টাররোলে ২০ বছর চাকুরি করা কবির হোসেন ও ১৭ বছর চাকুরি করা মোঃ হান্নান বাধ্য হয়ে প্রায় ৬ মাস আগে তারা বিদেশ চলে গেছেন।
রেনু পোনা কম দেয়ার বিষয়ে মৎস চাষি কক্সবাজারের চকরিয়ার ক্রেতা আশ্রাফ হোসেন মোবাইলে জানান, তিনি চলতি বছরের মে মাসে রেনু পোনার জন্য আসেন। ওজনে কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় আমাকে অপদস্ত করেন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান। জুন মাসে ফেনীর লক্সারহাট থেকে আসা মোঃ সবুজ চাহিদা অনুযায়ী রেনু না পেয়ে দুর্ব্যাবহার করায় ফিরে যায়। তিনি স্থানীয় এমপি, উপ-পরিচালক কুমিল্লা ও মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করেন। ফরিদগঞ্জের আবদুল মান্নান নামের ক্রেতা পোনার জন্য ৫বার গেলেও তাকেও বের করে দেয় এবং ব্যবসায়ী মোঃ মানিককে তিনবার কম সময়ের রেনু দেওয়ার পরও সেগুলো মারা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, অক্সিজেনের অভাবে কেন্দ্রের পুকুরের রুই, কাতল, মৃগেল ও সিলভারের মা মাছ মারা যাচ্ছে। প্রতিটি মাছের ওজন পাঁচ থেকে আট কেজি। কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কর্মচারীরা রাতের আঁধারে ওই পুকুরগুলোতে অতিরিক্ত চুন ফেলে পরিকল্পিতভাবে মা মাছগুলো মেরে বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন। দরপত্র ছাড়াই কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান তার ইচ্ছা মতো সব কাজ করে যাচ্ছেন। এ কর্মকর্তার যোগসাজসে অবসরপ্রাপ্ত গার্ড মফিজ মজুমদার  মাছের বিভিন্ন অবৈধ হরমোন বিক্রি করছেন।।
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী শাকিল পাটোয়ারী বলেন, দেশের অন্যতম রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান। এখানে উৎপাদিত রেণু-পোনা উন্নতমানের হওয়ায় সারা দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরকার নজর দিলে মৎস্য খাতে আরো বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। রেণু বিক্রির রসিদে টাকার অঙ্কের গরমিল নাই। জনবল সংকটের কারণে কিছুটা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এটি নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের কুমিল্লা বিভাগীয় উপপরিচালক (ডিডি) আবদুস সাত্তার বলেন, ‘রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
ঢাকা অফিসঃ ১৬৭/১২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা- ১০০০ আঞ্চলিক অফিস : উত্তর তেমুহনী সদর, লক্ষ্মীপুর ৩৭০০