গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

সহজ-সরল মানুষের অর্থ লুটে নিচ্ছে হাতুড়ে চিকিৎসকরা; এক প্রেসকিপশনেই ১২ হাজার টাকার ওষুধ!

Link Copied!

মনির হোসেন (৪২)। তিনি চায়ের দোকানে বসে গালে হাত দিয়ে চিন্তামগ্ন আছেন। এখানে কেন আসছেন, প্রশ্নের উত্তরে জানান- এক মাস আগে তার হাতের রগগুলো মোটা হয়ে যন্ত্রনায় ভোগছিলেন। সরকারি হাসপাতালে গেলে ডাক্তার পরীক্ষাসহ অনেক টাকার ওষুধ লিখে দেয়ায় আর যায়নি। তাই এক ব্যাক্তির পরামর্শে একমাস আগে রায়পুরের আবু তাহের সিদ্দিকি নামের এক ডাক্তারের (স্থনীয়ভাবে মেশিন ডাক্তার নামে পরিচিত) কাছে যন তিনি। তখন তিনি কয়েকটি মেশিন মনির হোসেনের হাতে-বুকে দিয়ে প্রেসক্রিপশানে ১২ হাজার টাকার ওষুধ লিখে দেন। এসময় মনির হোসেন বলেন- ‘কিন্তু ওই ওষুধে রোগ তো ভালো হয়নি। এখন আবার তাকে (চিকিৎসক) দেখাতে আসছি। আজকে উল্টাপাল্টা দেখলে না হয় আর আসবো না।’

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চরআবাবিল ইউপির (বাসাবাড়ী-হায়দরগঞ্জ সড়ক) দক্ষিণ উদমারা গ্রামের হাজি ষ্টেশন এলাকায় হাজি মেডিকেল হলের সামনে উপস্থিত হলে সদরের মান্দারি এলাকার চা দোকানি মনির হোসেনের এসব কথা বলেন।

সরজমিন দেখা যায়, রাস্তার পাশে হাজি মেডিকেল হলের মালিক আবু তাহের সিদ্দিকী (মেশিন ডাক্তার) মধ্যবয়সী নারী, বৃদ্ধ ও যুবককে ওষুধ দিচ্ছেন। শরীরের ৮০ প্রকার বাত, মেহ প্রমেহ, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, মাজায়-কোমড়ে ব্যাথা, বুক ধরফর, ডায়াবেটিস ও যৌন সমস্যার তাৎক্ষনিক উপশমের গ্যারান্টি দিচ্ছে ও এন্টিবায়োটিক ওষুধও দিচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি যখন ২০০ টাকায় প্রেসক্রিপশন দেন এবং তার দোকান থেকে ওষুধ বিক্রি করছিলেন তখন এমন দৃশ্যটিই দেখা গেল।

আরও পড়ুন-   উলিপুরে মাদরাসায় নিয়োগের আবেদন জমা নিতে গড়িমসি

আবু তাহের সিদ্দিকীর চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার চরকাছিয়া গ্রামের রুবী বেগম জানান, হাসপাতালে সে তার কোমড়ের ব্যাথার জন্য গেলে ডাক্তার তাকে কোন পরীক্ষা না দিয়েই প্রেসক্রিপশনের পাশে কি রোগ, তা না লিখে কয়েক হাজার টাকার ওষুধ লিখে দেন। এসময় তিনি বলেন- ‘আমি অন্যের কথায় এখান এসে আবাককান্ড।’

এদিকে ওই সময় বৃষ্টির মধ্যেই মান্দারি বাজার থেকে আসা মনির হোসেনকে (৪২) হাজি মেডিকেলের সামনের চা দোকানে দেখা গেল বামহাত দিয়ে মুখ চেপে বসে চিন্তায় মগ্ন। কেন আসছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘একমাস আগে আমার হাতের রগ মোটা হয়ে যন্ত্রনা করে। কিন্তু এই ডাক্তার আমার আলসার হয়েছে বলে একমাস আগে এন্টিবায়োটিকসহ ১২ হাজার টাকার ওষুধ লিখে দেয়। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি।’ আজকে কেন আসছেন জানতে চাইলে বলেন- ‘এইবারই শেষ। আর আসবোনা। সদর হাসপাতালে গেলে অনেক টাকার ওষুধ লিখে দেন ডাক্তার। আমি গরিব মানুষ-অল্প টাকার ওষুধ পাবো সেই শংকা থেকেই এখানে রাস্তার পাশে রায়পুর চিকিৎসা নিতে আসলাম।’

প্রেসক্রিপশন দেয়া, তার বাম পাশে কি রোগ তা লিখেন না কেন, পদবি ডিএমস লিখেন এর অর্থ কি এবং এন্টিবায়োটিকসহ ১০-১২ হাজার টাকার ওষুধ কেন দিচ্ছেন এসব প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

তবে আবু তাহের সিদ্দিকি বলেন, ‘আমার কয়েকটি প্রশিক্ষন রয়েছে। রোগীরা আসেন, তাই চিকিৎসা দিয়ে থাকি। আমি অসুস্থ্য, পরে আপনার সাথে কথা বলবো।’

আরও পড়ুন-   চিকিৎসককে হত্যার হুমকি তাদের সন্ত্রাসী চিন্তার প্রতিফলনঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা সেবা বর্তমান থাকতে এখনো হাতুরে ডাক্তারদের কাছ থেকে চিকিৎসা এবং মোটা অংকের টাকায় ঔষধ কিনে নিয়ে ব্যাধি মুক্ত হওয়ার চেষ্টা চলছে রায়পুরে। অবৈধ অনুমোদনবিহীন ঔষধ ও চিকিৎসা চলেছে। সরকারি স্বাস্থ্য সেবার মান ও সুযোগ জন-বান্ধব না হওয়ায় গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে অস্বাস্থ্যকর সেবা থেকে ফেরানো যাচ্ছে না।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১০টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ মঞ্জুরীকৃত এমবিবিএস চিকিৎসক ও সিনিয়র ষ্টাফ নার্স নাই। সাব এসিস্টেট্যান্ট মেডিকেল অফিসার আছে মাত্র ৯ জন। শিশু, গাইনি, মেডিসিন, চক্ষু, চর্ম ও যৌন রোগসহ ১০ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মধ্যে একজনই নাই।। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত দিনে যত চিকিৎসক এসেছেন, তারা বেশিদিন এখানে স্থায়ী থাকেনি।

এ ব্যাপারে নানা সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার পলাশ বলেন, ‘রাস্তার পাশের অ-অনুমোদিত হাতুরে চিকিৎসা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। অসাধু হাতুরে ডাক্তারদের বিভিন্ন রোগের পরামর্শে চোখ, চর্ম রোগ বা ক্যান্সারসহ নানাজটিল রোগ হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে সিভিল প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা জরুরী দরকার বলে মনে করছি।’

শীর্ষসংবাদ/নয়ন

biggapon ad advertis বিজ্ঞাপন এ্যাড অ্যাডভার্টাইজ

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 6252

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ