ঢাকাSaturday , 20 August 2022
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া ও কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গনমাধ্যাম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. প্রযুক্তি সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আশ্রয়ণের ঘরে নারীর অর্ধগলিত লাশ : স্বামী পলাতক

Link Copied!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সরকারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি তালাবদ্ধ ঘরে আসমা আক্তার (৩০) নামের গৃহবধুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ উপজেলার চরবংশি হাজিমারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

আসমা তার স্বামী খোকন গাজীর (৪০) সাথে ওই ঘরে বসবাস করতো। তবে খোকনের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আসমাকে হত্যা করে খোকন মৃতদেহ রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

নিহত আসমা উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাচিয়া গ্রামের ওসমান দর্জির মেয়ে। সে পলাতক খোকন গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, শনিবার সকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ পায় পাশের বাসিন্দারা। পরে তারা স্থানীয় হাজিমারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দরজা খুলে একটি মৃতদেহ দেখতে পায়। দুপুরের দিকে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়৷

তারা আরও জানায়, সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত ঘরটি স্থানীয় জাকির নামে এক ব্যক্তির। তার ঘরে মাসিক ৫০০ টাকায় ভাড়া থাকতো আসমা-খোকন দম্পতি। তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায় ঝগড়া হতো। গত ১৭ আগস্ট আসমা বেগম ও তার স্বামী খোকন গাজীর মধ্যে ঝগড়া লাগে। পরে খোকন ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে চলে যায়।

আসমার মা অজুফা বেগম ও বোন পেয়ারা বেগম বলেন, আসমার স্বামী খোকন গাজীর বাড়ি বরিশাল জেলায়। কিন্তু সে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতো। খোকন গাজির সাথে আসমার পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়। আসমা খোকনের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং খোকনের সাথে বিয়ের আগে আসমার আরেকটি বিয়ে হয়। ওই সংসারে তার এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের অমতে আগের সংসারের স্বামী-সন্তানদের রেখে সে খোকনকে বিয়ে করে।

তারা আরও জানায়, প্রায় দুই মাস আগে খোকনকে নিয়ে আসমা নারায়ণগঞ্জ থেকে তার পৈত্রিক বাড়িতে আসে। পরে মাস খানেক আগে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাজিমারা আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা একটি কক্ষ ভাড়া নেয় তারা। সে ঘরে তারা থাকতো এবং খোকন এ এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতো। শনিবার ভাড়া বাসায় আসমার পঁচা মৃতদেহ পাওয়া যায়। তার স্বামী খোকন পালিয়ে যায়।

হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শওকত ওসমান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আশ্রায়ন কেন্দ্রের ঘরে ঢুকে আসমার পঁচা মৃতদেহ পাওয়া গেছে। মৃতদেহটি খাটে শোয়ানো ছিলো। তার স্বামী পলাতক রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকান্ড বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, গত ১৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুরে একই উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দেবিপুর গ্রামের একটি সুপারী বাগান থেকে লায়লা নুর নিপু (২৫) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। দুইদিনের ব্যবধানে পুলিশ দুই নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। তারা দুইজন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
ঢাকা অফিসঃ ১৬৭/১২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা- ১০০০ আঞ্চলিক অফিস : উত্তর তেমুহনী সদর, লক্ষ্মীপুর ৩৭০০