ঢাকাThursday , 18 August 2022
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া ও কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গনমাধ্যাম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. প্রযুক্তি সংবাদ
  15. ফিচার

নয়শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে মামলা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে দুই গ্রাম পুরুষ শুন্য

Link Copied!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে গত মঙ্গলবার দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় বিবাদমান দুইপক্ষের নয়শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে নবীনগর থানার উপ-রিদর্শক মোঃ ইমরান বাদি হয়ে ১২৭ জনের নাম উল্লেখপূর্বক উভয় পক্ষের নয় শতাধিক লোককে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর ও সীতারামপুর গ্রামের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের দোকান ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে দাঙ্গাবাজরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে অর্ধশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এদিকে মামলা দায়েরের পর পরই গ্রেপ্তার আতঙ্কে দুই গ্রাম পুলিশ শুন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে দৌলতপুর এবং সীতারামপুর বাজারের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সীতারামপুর গ্রামের জিন্নাত আলীর কন্যার বিয়ে ছিলো গত সোমবার দুপুরে। বিয়ে উপলক্ষে ১৪ আগষ্ট রোববার বিকেল থেকে বিয়ে বাড়িতে সাজ-শয্যার জন্য ডেকোরেশনের কাজ চলছিল। ডোকেরেশনের কাজ করছিলো সীতারামপুর গ্রামের পাশের গ্রাম দৌলতপুরের সোহেল মিয়া। বিয়ে বাড়িতে নির্মান করা গেইটের ডিজাইন পছন্দ না হওয়ায় ডেকোরেশন কর্মী সোহেলের সাথে রোববার বিকেলে কনের ভাই রাজু ও রোমানের প্রথমে বাকবিতন্ডা ও পরে সোহেলকে মারধোর করে তারা। সোহেলকে মারধোরের বিষয়টি দৌলতপুরে ছড়িয়ে পরলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে বিয়ের পরের দিন ১৬ আগষ্ট সন্ধ্যায় সীতারামপুর বাজারে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দৌলতপুর ও সীতারামপুর গ্রামের কয়েকশ দাঙ্গাবাজ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। সংঘর্ষ চলাকালে সীতারামপুর বাজারের ১০টি দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় দুটি মোটর সাইকেলে অগ্নি-সংযোগ করে দাঙ্গাবাজরা। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় অর্ধ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে নবীনগর থানার উপ-রিদর্শক (এসআই) মোঃ ইমরান বাদী হয়ে ১২৭ জনের নাম উল্লেখপূর্বক উভয় পক্ষের নয় শতাধিক লোককে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরই দুই গ্রামের লোকদের মধ্যে পুলিশী আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দা জোহরা খাতুন বলেন, ঝগড়ার পর থেকে আমরা খুবই কষ্টে আছি। বাড়িতে বাচ্চারা আছে, তারাও খুব ভয় পায়। আমরা চাই দুই গ্রামের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করুক। তিনি বলেন, ঝগড়ার পর থেকে পুলিশ রাত-বিরাতে বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করে। পুলিশের ভয়ে পুরুষ লোকেরা বাড়িতে থাকতে পারছেনা

এ ব্যাপারে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফতি আমজাদ হোসেইন আশরাফী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা শুনে তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেছেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তিনি বলেন, এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে জন্য এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলের সাথেও পরামর্শ করেছি। তিনি বিষয়টি সমাধান করতে অ্যাডভোকেট সুজিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন। দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় নবীনগর থানার এসআই মোঃ ইমরান বাদী হয়ে কনের পিতা জিন্নাত আলীকে প্রধান আসামী করে ১২৭ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৮০০ জনকে আসামী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আমরা মামলার ৭ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
ঢাকা অফিসঃ ১৬৭/১২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা- ১০০০ আঞ্চলিক অফিস : উত্তর তেমুহনী সদর, লক্ষ্মীপুর ৩৭০০