ঢাকাSaturday , 13 August 2022
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া ও কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গনমাধ্যাম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. প্রযুক্তি সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুনাফিকের কাছে ভারী দুই নামাজ

জে এম আলী নয়ন
August 13, 2022 9:06 pm
Link Copied!

প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। পাগল না হলে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর নির্দেশ পালনে প্রতিটি ওয়াক্তই গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করতে হয় মুসলমানদের। তবে হাদিস অনুযায়ী, ফজর ও এশার নামাজ মুনাফিকদের জন্য খুবই কষ্টকর।

সারাদিন নামাজ পড়লেও এই দুই ওয়াক্ত নামাজ তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এর গুরুত্ব তারা উপলব্ধি করতে চায় না। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার নামাজের চেয়ে অধিক ভারী কোনো নামাজ নেই। এ দুই নামাজের ফজিলত যদি তারা জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো।’ (বুখারি: ৬৫৭)

আরও পড়ুন: পাঁচ সাংবাদিকের ওপর হামলা: লালমনিরহাট রিপোর্টার্স ইউনিটির নিন্দা

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার মহানবী (স.) আমাদের ফজরের নামাজ পড়িয়েছেন। সালাম ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করেন, অমুক কি আছে? লোকেরা বলল, নেই। তারপর আরেকজনের নাম নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, অমুক কি আছে? লোকেরা বলল, নেই। তিনি বলেন, এ দুই নামাজ (এশা ও ফজর) মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। তোমরা যদি জানতে যে এই দুই নামাজে কী পরিমাণ সওয়াব আছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে শরিক হতে।’ (আবু দাউদ: ৫৫৪)

এশা ও ফজরের নামাজের জামাতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে এ দুই সময়ে মানুষ সাধারণত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায় ও বিশ্রাম করে। ফলে এই দুই ওয়াক্তে জামাতে শরিক হতে যথেষ্ট অবহেলা ও গাফিলতি হয়ে থাকে। বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন সারারাত জেগে নামাজ আদায় করল’ (মুসলিম: ১৩৭৭)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল।’ (মুসলিম: ৬৫৬)

জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে নবী (স.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজের ফজিলত একাকী নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি।’ (মুসলিম: ১৪৭৭)

সুন্নত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিসে এর প্রভূত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা অন্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হয়নি। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম: ৭২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও তোমরা এই দুই রাকাত কখনো ত্যাগ করো না।’ (আবু দাউদ: ১২৫৮)

আরও পড়ুন: অক্টোবর হতে ফেসবুক লাইভে বিক্রি করা যাবে না কোনো পণ্য!

এশার নামাজের চার রাকাত ফরজের পরে দুই রাকাত সুন্নত গুরুত্বপূর্ণ। ফরজের আগে চার রাকাত সুন্নত জরুরি না হলেও পড়া উত্তম। এ হিসেবে এশার নামাজ মোট ১০ রাকাত। এশার পর তিন রাকাত বিতির পড়া ওয়াজিব। বিতিরসহ হিসাব করলে মোট ১৩ রাকাত হয়। তবে বিতির এশার নামাজের অন্তর্ভুক্ত নয়, স্বতন্ত্র নামাজ, যা এশার পর এবং ফজরের আগে পড়তে হয়।

কিছু মানুষ মনে করেন এশার চার রাকাত ফরজ ও তিন রাকাত বিতিরের ওয়াজিব আদায় করলেই হবে, দুই রাকাত সুন্নত বাদ দিলেও হয়। এটা শয়তানের কুমন্ত্রণা ছাড়া কিছুই নয়। নিয়মিত কোনো সুন্নত বাদ দিলেও গুনাহ হবে।

আরও পড়ুন: বিরামপুরে এইচএলপি প্রতিষ্ঠানিকীকরণ কর্মশালা অনু্ষ্ঠিত

এশার পরের দুই রাকাত সুন্নতের ফজিলত সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে- আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নিয়মিত আদায় করবে তার জন্য আল্লাহ জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলো—জোহরের আগে চার রাকাত, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত।’ (তিরমিজি: ৪১৪)

যেকোনো নামাজের ব্যাপারে অবহেলা করা যাবে না। যারা নামাজের ব্যাপারে উদাসীন তাদের ব্যাপারে আল্লাহ শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে গাফেল’ (সুরা মাউন: ৪-৫)। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফজর-এশাসহ প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো জামাতে পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শীর্ষসংবাদ/নয়ন

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
ঢাকা অফিসঃ ১৬৭/১২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা- ১০০০ আঞ্চলিক অফিস : উত্তর তেমুহনী সদর, লক্ষ্মীপুর ৩৭০০