রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জরুরিভাবে কাজ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে বিলম্ব হলে পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।’
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে (জেসিসি) ‘১৮তম ইস্ট এশিয়া’ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন এবং তিন দিনব্যাপী ‘৪৩তম আসিয়ান’ শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে এটি দেশের জন্য বড় সমস্যা।’ এসময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করারও আহবান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব। সংকটের সাত বছরেও আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সমাধান চোখে পড়েনি।’
আরও পড়ুন- মধ্যরাতে ফেসবুকে ছাত্রলীগের কমিটি, ধন্দে কর্মীরা
আসিয়ান এবং ইস্ট এশিয়া সামিটে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যেখানে আসিয়ান এবং বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসিয়ানের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে এর সেক্টারা্ল ডায়ালগ পার্টনার হতে চায় বাংলাদেশ।’
আসিয়ানের সাথে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় আইওআরএ -এর চেয়ার হিসেবে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
পরে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন, লাওস এর প্রধানমন্ত্রী সোনেক্সে সিফানডোনসহ সম্মেলনে যোগদানকারী বিশ্ব নেতাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
আসিয়ানের চেয়ার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর আমন্ত্রণে আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি ইস্ট এশিয়া সামিটেও যোগ দেন রাষ্ট্রপতি।

