বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডাঃ জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তারেক রহমানকে ৯ বছর ও তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমানকে ৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২ আগষ্ট) বিকেলে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোঃ আছাদুজ্জামান এ রায় দেন। এদিন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আছাদুজ্জামান এ রায় পড়া শুরু করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তথ্য গোপনের অভিযোগে তারেক রহমানকে তিন বছর কারাদণ্ড এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে তাকে ৬ বছর কারাদণ্ড, ৩ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর তারেক রহমানের স্ত্রী ডাঃ জোবায়দা রহমানকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড, ৩৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- দেশের মানুষ এখন শান্তিতে ভোট দিতে পারেঃ প্রধানমন্ত্রী
এছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত ২ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭ টাকা রাষ্ট্রেরর অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিকে, রায় শুনে আনন্দ উল্লাস করেছেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। আর এ রায়কে ভুয়া বলছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
এদিকে রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার তদারকি অফিসার পুলিশ পরিদর্শক ফারুকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রায় ঘিরে যেকোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’
এর আগে, ২৭ জুলাই এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর রায়ের জন্য আদালত এ দিন ধার্য করেন।
২০২২ সালের ১ নভেম্বর পলাতক তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি আদালত গ্রেফতার পরোয়ানার তামিল প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এরপর গত ১৯ জানুয়ারি তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আরও পড়ুন- খেলা হবে, ডিসেম্বরে ফাইনাল খেলা হবেঃ ওবায়দুল কাদের
এরপর তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন আদালত। এরপর গত ১৩ এপ্রিল আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ২১ মে আদালতে মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হুদা সাক্ষ্য দেন।
গত ২৪ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম শেষ সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে মামলাটিতে ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে ৪২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৭ জুলাই দিন ধার্য করেন।
ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় তারেক রহমান, জোবায়দা রহমান ও তার মা অর্থাৎ তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়।





