মিডিয়ার কারণে ক্রিকেট আটকে আছে কী না প্রশ্ন সুজনের

Print Friendly

নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে টেস্ট সিরিজ। অন্তত আড়াই দিন হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে লঙ্কানরা। তাই অনেকটা রিলাক্সেই সময় কাটছে তাদের। পক্ষান্তরে একেবারেই উল্টো অবস্থা টাইগার শিবিরে। বিলাসিতা করার কোনো সুযোগ নেই। বিকেলে ও সন্ধ্যায় কঠোর অনুশীলন করছে তামিমরা। ওয়ানডে-টেস্ট হাতছাড়া, বাকি টি-টোয়েন্টি। অন্তত এ সিরিজটা যদি নিজেদের আয়ত্বে রাখা যায়!কিন্তু সেটিও যে কত কঠিন, না বললেও চলছে। মধ্যসাগরে বাংলাদেশ দল কোন দিক হারিয়ে ফেলল, প্রশ্নের তীর ছুটে যাচ্ছে দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদের দিকে। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে বড় দায়িত্ব পেয়েছিলেন, নিজেকে দুর্দান্ত ‘টেকনিশিয়ান’ হিসেবে প্রমাণ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার নামের পাশে বড় ‘গোল্লা’! তার অধীনে দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্টে বাজেভাবে হেরেছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম টেস্টে খেলা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে ঢাকা টেস্টে খেলানো হয়নি। ঢাকা টেস্টে একাদশে না থাকা মোসাদ্দেক ওই সময় আবাহনীর হয়ে ডিপিএলের ম্যাচ খেলেছেন।টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন আবার আবাহনীরও কোচ। মোসাদ্দেককে ঢাকা টেস্টে একাদশে না রাখার পেছনে মূল ভূমিকায় খালেদ মাহমুদ সুজন ছিলেন এমন প্রশ্ন উঠছে। সব বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোমবার মিডিয়ার উপর চটেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, দল খারাপ করেছে। দায় আমি নিতেই পারি। হয়তো আমাদের পরিকল্পনায় ভুল ছিল। সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ও থাকতে পারে। আমি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নই। এ বিষয় নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব। দলের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে আর ইচ্ছা করছে না। জায়গাটা নোংরা লাগছে।নোংরা জায়গাটা আসলে কী? বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, নোংরা বলতে মিডিয়া যেভাবে বলা হয়। মিডিয়াও আমাদের ক্রিকেটের অন্তরায়। মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেটে আটকে আছে কি না সেটা নিয়েও আমার প্রশ্ন আছে।

মিডিয়ার দাবি তিনি মেনে নিচ্ছেন কিনা? এমন প্রশ্নে সুজন বলেন, না, মিডিয়ার দাবি মানছি না। আমি বলতে চাচ্ছি, আপনারা এটা প্রতিষ্ঠিত করতে চান। চান্ডিকা চলে গেল কেন? এটা প্রতিষ্ঠিত করানো হইছে। আমরা তো বাচ্চা খোকা না এখন। সবাই তো বড় হয়েছে। অনেক কিছু প্রতিষ্ঠিত করা হয়। আমার পিছনে যদি লেগে থাকা হয়, আমি কোনদিন ভালো করলেও ভালো হব না। এতবছর ভালো করলেতো শুনি নাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলেন, গণমাধ্যম বলেন। আজকে এমনও শুনছি যে, রাস্তায় গেলে আমাকে মাইরও খাইতে হতে পারে। ক্রিকেট খেলার জন্য মাইর খেতে হইলে…এটা তো আসলে বেমানান।তিনি বলেন, আমি তো গড নই। আমি তো খালেদ মাহমুদ সুজন। আমি খুবই সামান্য একটা মানুষ। আমি এখানে দাঁড়িয়ে কাজ করেছি, মানুষ স্বীকার করুক না করুক আমি এটা ভালোবাসি। আমি যখন শুরু করছি আপনারা হয়ত তখন খুব ছোট। জানেন না, হয়ত জানার কথাও না। আমি যখন শুরু করি ১২-১৩ বছর বয়সে। অন্য কিছু নিয়ে কথা বলা আমার মেজাজ খারাপ হতে পারে। টেকনিক হয়ত খারাপ হতে পারে। কিন্তু অন্য বিষয় নিয়ে যখন কথা বলে তখন এটা আমাকে খুবই আহত করে। সত্যি কথা বলতে গেলে যখন আসে যে আমি আবাহনীর প্রধান কোচ, আমি মোসাদ্দেককে খেলাই নাই এই কারণে যে আবাহনীতে খেলার জন্য। যখন জাতীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলে তখনই এটা খুবই আহত করে। সুজন আরও বলেন, আমি মনে করি না বাংলাদেশের থেকে আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে বেশি অনুভব করাতে পারে। জীবনেও ছুঁতে পারবে না, ছুঁতে পারেওনি। এইগুলা নিয়ে যখন কথা বলা হয় তখন আহত হই খুব। তখন মনে হয় এত বছর ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে আসলে কি লাভটা হল। মোসাদ্দেক আর আবাহনী যদি বাংলাদেশের ম্যাচ হারার কারণ হয়ে যায়। তাহলে খুব কঠিন আসলে। ৫৩ বলে ৯ রান করছে আমিও দেখছি। আমারও ক্রিকেট জ্ঞান আছে, আমিও দেখছি। ৮৩ সালে ক্রিকেট খেলা শুরু করছি। অনেক বছর হয়েছে। চুলও পেকে গেছে এখন। কে পারে, কে পারে না, কখন কাকে দরকার। এটা আমরাও বুঝি। আপনারা হয়ত আরও ভালো বুঝেন। এতকুট বোঝার ক্ষমতা আছে আমারও।