‘ভাবতে পারিনি এতো দ্রুত গুটিয়ে যাবে’

Print Friendly

লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরেজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে গুড়িয়ে যায় বাংলাদেশ ধর। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৩ রানেই অলআউট। সাবেক শিষ্যদের কাছে এতটা বাজে নৈপুণ্য আশা করেননি কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও। মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে ২২২ রানে থেমেছিল শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস। আর হাথুরুর বিষণ্ন মুখ দেখে বাংলাদেশ দলের সাবেক এ কোচের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্ন ‘বাজে শুরু হওয়ায় কতটা হতাশ? ম্লান হেসে হাথুরু উত্তর দিয়েছিলেন, ‘কীভাবে উড়লাম, সেটি ব্যাপার নয়। কীভাবে অবতরণ করছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
আর ম্যাচ শেষে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেন ‘এটা ভীষণ কঠিন উইকেট। তারা (বাংলাদেশ) পারেনি বলে দোষ দিতে পারেন না। তবে যেভাবে তারা ব্যর্থ হয়েছে, সেটি আমিও আশা করিনি। তারা এর চেয়ে ভালো ব্যাটিং করতে পারতো। এই উইকেটে ৩০০ রান আশা করতে পারবেন না। প্রথম দিন ২৪০ ভালো স্কোর। আমরা ২২০ (২২২) করেছি। কিছুটা কম হয়েছে। তবে ভাবতে পারিনি তারা প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে গুটিয়ে যাবে।’

শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের স্পিন সহায়ক উইকেট দেখে অবাক হয়েছিলেন রঙ্গনা হেরাথ, রোশেন সিলভারা। তবে এমন উইকেট দেখে একটুও অবাক হননি কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। আর এতে হাথুরুর ব্যাখ্যাটাও পরিষ্কার। ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২১৫ রানের জয় শেষে শ্রীলঙ্কা দলের কোচ হাথুরুসিংহে বলেন, ‘গত ছয় মাসে এখানে অনেক খেলা হয়েছে। এই সময়ে কারো পক্ষে ভিন্ন উইকেট তৈরি করা কঠিনই। আপনি যদি ত্রিদেশীয় সিরিজে দেখেন, প্রায় প্রতি ম্যাচেই উইকেট ভেঙেছে। একটা টেস্টের উইকেট তৈরিতে আপনাকে অন্তত ছয় মাস সময় দিতে হবে।’ গত অক্টোবরে বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথে বিসিবিকে পদত্যাগপত্র দেন কোচ হাথুরুসিংহে। পরে তিনি দায়িত্ব নেন নিজ দেশ শ্রীলঙ্কা দলের। শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে বাংলাদেশ সফরটাই তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা কুড়ায় শ্রীলঙ্কা। আর টেস্ট সিরিজও জিতে নেয় তারা ১-০তে। রাতারাতি বদলে গেল শ্রীলঙ্কা? জিতে নিলো টানা দুটি সিরিজ? প্রশ্নটা শুনে হাথুরুর মুখে হাসি, ‘আপনাকে সব সময়ই ভালোভাবে  তৈরি হতে হবে। দলের শক্তিমত্তা আপনাকে বুঝতে হবে। নিজের শক্তি বুঝেই পরিকল্পনা ও কৌশল সাজাতে হবে। আপনি যদি ভালোভাবে  তৈরি থাকেন ও নিজের শক্তি অনুযায়ী পরিকল্পনা থাকে, বলছি না সব জায়গায় সফল হবেন। তবে সব জায়গায় ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হতে পারবেন।