ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের দৌড়াত্ব : অতিষ্ঠ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা

Print Friendly

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সদর হাসপাতালের মূল ভবনের মাত্র কয়েক গজ দুরে ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের দৌড়াত্বে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে রোগী ও স্বজনরা। তাঁরা জানায়, উচ্চস্বরে আওয়াজ করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও সদর হাসপাতালের ভেতর যেন দোকানীদের মেলায় পরিণত হয়েছে।

সদর হাসপাতালটি রামগতি বাস ষ্টেশন থেকে ৫০ গজ পশ্চিমে এস আর রোডের উত্তর পার্শ্বে জেলা পরিষদ সংলগ্নে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের পূর্বে ডিসপেন্সারী হিসাবে কার্যক্রম ছিল এবং ১৯৭২ সালে ৩১ শয্যা হাসপাতালে রুপান্তরিত হয়। ১৯৮৪ সালে ৫০ শয্যা ও ২০০৩ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে জরুরি, আন্তঃ ও বহিঃ বিভাগের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। তাই জেলার প্রত্যেক উপজেলা ও পাশ্ববর্তী জেলা গুলো থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবা নিতে এখানে আসেন রোগীরা। কিন্তু এখানে এসে ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের ভীড়ের কারনে সমস্যায় পড়েন হয় রোগী ও রোগী ভহনকারি গাড়ি।

সরেজমিনে রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকালে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের প্রধান গেইটের সামনেই ৪টি জামা কাপড়ের দোকান, ২টি ফলের দোকান ও ১টি তিলের খাজার দোকান। এর কিছুদুর গেলেই চোখে পড়ে ৫টি জুতার দোকান ও ১টি ফলের দোকান। এরা সবাই উচ্চস্বরে আওয়াজ করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। তবে হাসপাতালের মাত্র কয়েকগজ সামনে গেলেই আবার চোখে পড়ল ৩টি ফলের দোকান, ১টি জামা কাপড়ের দোকান ও ১টি মোবাইল রিচার্জ এর দোকান। তবে হাসপাতাল ভবনের প্রধান দরজায় লক্ষ করা যায় ১টি ঝালমুড়ি ও চানাচুর বিক্রেতা, ২টি বেলুন বিক্রেতাকে। তারাও ঐখানেই উচ্চস্বরেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে বিক্রি করার জন্য।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে শীর্ষ সংবাদকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের কারনে রোগী ও রোগী বহন করা গাড়ি যাতায়াত করতে সমস্যা হয়। দোকানিরা উচ্চস্বরে আওয়াজ করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে ফলে সৃষ্টি হচ্ছে শব্দদূষন। কিন্তু হাসপাতালের প্রধান গেইটের সামনেই লেখা আছে হর্ণ ও উচ্ছস্বরে আওয়াজ করবেন না। কিন্তু হাসপাতাল সীমানার ভিতরে তার সম্পূর্ন বিপরীত। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের জন্য ও তারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ দোকানি বলেন, প্রতিদিন পৌরসভাকে ১০-২০ টাকা দিয়ে থাকি। শহরের যে কোন যায়গায় ফেরি ফেরি করে বিক্রি করি। কিন্তু এখানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্রি করি। এখানে অনেক ক্রেতা পাওয়া যায়। কারন এখানে বাজারের চেয়ে অনেক কম দামেই ক্রেতারা পচন্দের জিনিস ক্রয় করতে পারে।
স্বল্প পুঁজিতে ফেরি ফেরি করে ব্যবসা করেন বলে পৌরসভার টাকা ছাড়া অন্য কাউকে কোন টাকা দিতে হয়না। ফলে তাদের অল্প লাভে বিক্রি করতে কোন সমস্যা নাই। তাই তাদের বিক্রি ও বেশী হয়। আর বিক্রি বেশি হওয়াতেই লাভও বেশি হয়। আর তা দিয়েই চলে তাদের সংসার।

তবে হাসপাতালের কয়েকগজ দুরে অবস্থিত ভ্রাম্যমাণ রিচার্জ দোকানি হাসিবুর রহমান সুমন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগী এবং তাদের স্বজনরা মোবাইলে রিচার্জ করার জন্য বাজারে যেতে হয়। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র তাকে এখানে ব্যবসা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ কোন দোকানিকে অনুমতি দেয়নি ব্যবসা করার জন্য। তারা কিভাবে এখানে ব্যবসা করে তাও জানি না। তবে তাদেরকে সরানোর দায়িত্ব আমাদের না প্রশাসনের। কারন আমরা ভিতরের কাজেই ব্যস্ত থাকি সবসময়।

শহর পুলিশ পাড়ির ইনচার্জ বেলায়েত হোসেন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, কয়েকদিন পর পরই ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও তারা একই যায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করে।
তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, উদ্ধতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে খুব শ্রীগই স্বল্পমেয়াদী নয় দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।