আহা! লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কি চেহারা!

Print Friendly

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আবর্জনা আর যাবতীয় সব বর্জ্যে সয়ং সম্পূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। ছবিটির দিকে তাকালেই বিস্তারিত বলার অপেক্ষা রাখে না। তবুও বলতে হয় কারণ এটি একটি হাসপাতাল। যা সরকারের অর্থায়নে এবং তত্ত্ববধানে জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ হাসপাতালের এলাকা জুড়ে ভিন্নরকম পরিবেশ বিরাজ করছে। হাসপাতালের বাইরে শব্দ দূষণ থেকে শুরু করে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, নালায় নোংরা পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রবসহ আরো কত কি! এসব সমস্যার কথা বলছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা। সত্যিই হাসপাতালটির দেয়ালের দিকে তাকালেই এর বাস্তবতা মিলে। না বললেও সত্য যে এ প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল।

প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা আরো বলেন, হাসপাতালের ভিতরে প্রায় সব সময়ই কেমন যেন দুর্গন্ধ থাকে। টয়লেটগুলো তো ব্যবহারের পুরোপুরি অনুপযোগী। প্রত্যেক তলার সিঁড়ি এবং চলাচলের গলিগুলো থুথু, কফ এবং পানের বর্জ্যে দূষিত। ওয়ার্ড গুলোও অপরিচ্ছন্ন। এক টুকরো খাবার নিচে পড়লে আবার তুলে খাওয়ার মতো পরিবেশ নাই। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই তবে যা আছে তা হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরাই ব্যবহার করছেন না।

Image result for লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল জেলার সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল। ১০০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি চলছে ৫০ শয্যার জনবল নিয়ে। সদর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলা এবং ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষজন এখানেই চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এছাড়াও দূর্ঘটনা কবলিত আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, সুইপার, আয়া এবং ওয়ার্ড বয়সহ বিভিন্ন পদে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে হাসপাতালের বাইরে এবং ভিতরে পরিবেশ অনেকটাই অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় আমাদের ডাক্তারদের মধ্যে সমন্বয় করে চাঁদা তুলে ১১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিযুক্ত করা হয়েছে। তবুও অপরিচ্ছন্নতা ঠেকানো যাচ্ছে না।

তবে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর মাহবুব মোহাম্মদ আলী শীর্ষ সংবাদকে বলেন, প্রতিষ্ঠান কেমন থাকবে তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ। আর কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতি অনুযায়ী চলবে প্রতিষ্ঠান। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত এটি কষ্টসাধ্যই হয়ে থাকে।