পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি : তিন হাজার টাকায় লক্ষ্মীপুুরে সিএনজি! (পর্ব-০৩)

Print Friendly

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লাল রংয়ের সিএনজি চলবে লক্ষ্মীপুর জেলায়। হলুদ রংয়ের সিএনজি চলবে চাঁদপুর জেলায়। লাল রংয়ের সিএনজি যেমন লক্ষ্মীপুরের বাইরে কোন জেলায় প্রবেশ করতে পারবে না, তেমনি হলুদ রংয়ের সিএনজিও চাঁদপুরের বাইরে কোন জেলায় প্রবেশ করতে পারবে না। প্রবেশ করলেই আইনত অপরাধ। দীর্ঘদিন থেকেই এই আইন কার্যকর রয়েছে।
সে আইন ভঙ্গ করে চাঁদপুরের সিএনজি (হলুদ রংয়ের) কিভাবে এই জেলায় প্রবেশ করে তা জানা নেই। তবে বিষয়টি অবগত আছি। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করেছি। এমনটি মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সহকারি পরিচালক আনোয়ার হোসেন।

এই রোডে যাতায়াত করা চাঁদপুর জেলার লাইসেন্স প্রাপ্ত কয়েকজন সিএনজি চালক শীর্ষ সংবাদকে বলেন, চাঁদপুরে নৌ-বন্দর হওয়াতে সহজে নৌ-পথে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করা যায়। আর সে পথের অনেক যাত্রী পাওয়া যায় লক্ষ্মীপুরে। তাই আমরা অতিরিক্ত কিছু টাকার জন্য আইন ভঙ্গ করে এই জেলায় প্রবেশ করি। তার জন্য আমাদেরও দিতে হয় চাঁদা (জিপি)। রায়পুর থেকে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত প্রতি যাত্রী ১’শ টাকা করে ৫ জনের ৫’শ টাকা আয় হয়। কিন্তু তাতে চাঁদা (জিপি) দিতে হয় ১’শ টাকা। তার মধ্যে লক্ষ্মীপুরেই ৬০ টাকা দিতে হয়।
তারা আরো বলেন, এই জেলায় প্রবেশের জন্য প্রথমে আলমের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হয়। তাতে সে আমাদের একটা কার্ড প্রদান করে। যার মাধ্যমে আমরা লক্ষ্মীপুরে প্রবেশ করছি। এছাড়াও মাসিক ৩’শ টাকা করে ও প্রতিদিন চাঁদা (জিপি) ৬০ টাকা দিয়ে থাকি। কারন ট্রাফিক ধরলেই কার্ড আছে কিনা জানতে চায়। দেখাতে পারলে ছেড়ে দেয় আর না দেখাতে পারলে মামলা দিয়ে দেয়। তবে তার মাঝেও দায়িত্বরত ট্রাফিক ছাড়া প্রশাসনিক অন্য কোন কর্মকর্তা ধরলে কোন রক্ষা নেই। জরিমানা গুনতে হয় ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত।

তবে আলমের কাছে ভর্তি ছাড়াও হলুদ রংয়ের অনেক সিএনজি লক্ষ্মীপুরে প্রবেশ করে।
তারা জানান, ভর্তি হয়েও লাভ হয়না। কয়েকদিন পর পরই অভিযান হয়। অনেক ঘুরে অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে না পারলে গুনতে হয় হাজার হাজার টাকা জরিমানা। এছাড়াও ভর্তির কার্ড না থাকাতেই সেই ট্রাফিকের কাছে ধরা পড়লেই গুনতে হয় জরিমানা, অন্যদিকে ভর্তি করে কার্ড করারও পরামর্শ দেন ট্রাফিক।

সিএনজি (হলুদ রংয়ের) ভর্তির বিষয়ে মুঠোফোনে শ্রমিক নেতা মো. আলম বলেন, চাঁদপুরের সিএনজি (হলুদ রংয়ের) লক্ষ্মীপুরে যাতায়াত করতে হলে প্রথমে ৩ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হবে।

এরপর মাসিক ৩’শ টাকা করে দিতে হবে। এছাড়াও প্রতিদিন নিদিষ্ট চাঁদা (জিপি) দিতে হবে। এ শর্ত পালনেই চাঁদপুরের সিএনজি লক্ষ্মীপুরে প্রবেশ করতে পারবে। অন্যথায় মামলা সহ নানা হয়রানির শিকার হতে হবে। আর শুধুমাত্র চাঁদার (জিপি) টাকা ছাড়া বাকি সব টাকাই রায়পুরে দায়িত্ব রত টিআই জিল্লুর রহমান নিবে।

তবে অভিযুক্ত টিআই জিল্লুর রহমান শীর্ষ সংবাদকে কাছে আলম নামের কাউকে চিনেন না বলে এ অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী শীর্ষ সংবাদকে বলেন, লক্ষ্মীপুরের সীমানায় প্রবেশের অপরাধে পুর্বে আমরা অনেকবার শাস্তি দিয়েছি। তখন কিছুটা কম ছিল। তবে কয়েকদিন থেকে আবার তারা আইন অমান্য করে এই জেলায় প্রবেশ করছে। খুব শিঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. মামুন আল আমিন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, চাঁদপুরের সিএনজি (হলুদ রংয়ের) এই জেলায় আসে সে বিষয়ে অবহিত রয়েছি। প্রায় সময় অভিযান পরিচালনা করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করছি। টিআই জিল্লুর রহমানের কাছে ভর্তি ও কার্ড প্রদানের বিষয়টি জানা নেয়। আর কখনো কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগ নিয়ে আসেননি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।