শোয়েব, ব্রেটলি এবং শন টেইটদের পথে লক্ষ্মীপুরের স্পীড বয় হাসান

Print Friendly
স্পীড বয় হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ক্রিকেট দুনিয়ায় সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলারদের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন পাকিস্তানের শোয়েব আখতার, অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি, শন টেইট এবং জেফরি টমসন। আর সেরা এই ফাস্ট বোলারদের পথে পা বাড়িয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের তরুণ এক ফাস্ট বোলার। যিনি ইতোমধ্যে বিশ্ব মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরেছেন। ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে বল করেছেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণ এ ফাস্ট বোলার নিজ এলাকায় বোলিংয়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার সতীর্থ ক্রিকেটাররা তো তার নামের আগে রীতিমতো স্পীড বয় ব্যবহার করছেন।

এবারের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে গত ১৮ জানুয়ারি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৯.৭৬ কিলোমিটার বেগে বল করেন তরুণ এই ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ। তার বোলিং স্পীড এবং বোলিং দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ধারাভাষ্যকাররা। ধারাভাষ্যকারদের মতে, স্পীড বয় হাসান আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে আগ্রহী। খবর ঢাকা নিউজ।

ক্রিকেট ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ মাইলের উপর গতিতে বোলিং করেছেন শোয়েব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছিলেন এই পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার। এখন পর্যন্ত যে রেকর্ড অক্ষত।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গতিতে বোলিং করার রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার লিজেন্ড ফাস্ট বোলার ব্রেট লির। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬১.১ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছিলেন লি। এটা দ্বিতীয় দ্রুতগতির বোলিং। তৃতীয় বোলার হিসেবে ১০০ মাইলের উপর গতিতে বোলিং করেন শন টেইট। অজি এই ফাস্ট বোলার একমাত্র বোলার যিনি দুই দুইবার ১৬০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছেন। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬১.১ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেন। যা তৃতীয় দ্রুতগতির বোলিং। একই বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ ক্রিকেটে ১৬০.৭ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের এই ফাস্ট বোলার। এটা ক্রিকেট বিশ্বের চতুর্থ দ্রুতগতির বল।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে যিনি বিশ্বমঞ্চে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন তিনি ভবিষ্যতে বিশ্বসেরা এই ফাস্ট বোলারদের পিছনে ফেলবেন, এমনটা অকল্পনীয় কিছু নয়।

ইএসপিএন ক্রিক ইনফো’র মাসিক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেট’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে শোয়েব আখতার বলেন, ক্রিকেটে ভালো কিছু উপহার দেয়ার জন্য আমি ওয়াকার ইউনুস, ইমরান খান ও ওয়াসিম আকরামের মতো খেলোয়াড়দের অনুকরণ করার চেষ্টা করতাম। পরে আমার এই চেষ্টা এক ধরনের আসক্তিতে পরিণত হয়।

তিনি আরো বলেন, অনুপ্রেরণা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ মেধা সবসময় হিরোকে অনুসরণ করে এবং এই অনুকরণ ও অনুসরণ তোমাকে অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সম্প্রতি একাত্তর টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে স্পীড বয় নামে পরিচিত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের তরুণ ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ বলেন, আমি সেরা ফাস্ট বোলারদের অনুসরণ করি। ফাস্ট বোলারদের স্বপ্ন জোরে বল করা। আমি চেষ্টা করে যাবো জোরে বল করে যাওয়া। একই সাথে টিমকে ভালো কিছু দেয়ার।

তরুণ এই ফাস্ট বোলারের জন্ম লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি সদর উপজেলার বাঞ্চানগর গ্রামের মমিন ভেন্ডার বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবী মো. ফারুক হোসেনের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে হাসান সবার ছোট। লক্ষ্মীপুর আলীয়া মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৪.৪৪ অর্জন করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি নিজ জেলার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত রয়েছেন।