নির্বাচনী বছরে ছাত্রলীগের সম্মেলন, ষড়যন্ত্র নয়তো?

Print Friendly
নির্বাচনী বছরে ছাত্রলীগের সম্মেলন, ষড়যন্ত্র নয়তো?

ঢাকা: গঠনতন্ত্র কি শুধু ছাত্রলীগেরই আছে?? যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এসব সহযোগী সংগঠনের কি গঠনতন্ত্র নেই??? সর্বশেষ কবে এই সব সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন হয়েছে, তা জানা নেই তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীদের।

পদ-পদবি হারানোর ভয়ে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনে আগ্রহ নেই এসব সংগঠনের বর্তমান নেতাদের। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে আগের কমিটি দিয়েই খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে চলছে সহযোগী সংগঠনগুলো। ফলে এসব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

তাহলে কেন ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে এত তোড়জোর? সহযোগী সংগঠনগুলো কি গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করছে না? ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র সবার মুখস্থ কিন্তু নিজের গঠনতন্ত্রের খবর নেই!

কারণ, ছাত্রলীগ এতিম। এতিমকে দেখার কেউ নেই। আবার, এই এতিমরাই দেশ ও দলের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়িত।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে, বর্তমানে ৭টি সহযোগী সংগঠন রয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ২০০৩ সালের ১২ জুলাই মহিলা আওয়ামী লীগ, ২০০৪ সালের ১৫ মার্চ যুব মহিলা লীগ, ২০০০ সালের ২০ জুলাই আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এবং ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট তাঁতী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রায় কাছাকাছি সময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর ২০১২ সালের ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ১৪ জুলাই যুবলীগ এবং ১৯ জুলাই কৃষক লীগ আরেক দফা কেন্দ্রীয় সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করে। সেই হিসেবে তিনবছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে গত বছর জুলাইয়ে। ফলে এই তিনটি সংগঠনের মেয়াদ পার হয়েছে, প্রায় এক বছর হতে চলল।

দল নয়, নিজেদের আখের গোছানোয় মহা ব্যস্ত, সম্পদের পাহাড় গড়াই যেন সহযোগীদের তাঁদের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।

ব্যবসায়ী নেতাদের ভিড়ে, তরুণ নেতারাও রয়েছেন অস্তিত্বের সংকটে। দলে ব্যবসায়ীদের প্রভাব বাড়ছে। এই ব্যবসায়ীরা টাকার বিনিময়ে কমিটিতে জায়গা করে নিচ্ছে। কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের আংশিক কমিটি হলেও মূল দলসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর কোনো সম্মেলন না হওয়ায় নেতাকর্মী সবার মধ্যেই একটা গাছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে।

আর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ দুই বছর। উত্তীর্ণের পর পরেই সম্মেলন নিয়মিত করেছে সংগঠনটি। এইবার বিবেক দিয়ে চিন্তা করুন তো, এতিম বলে গঠনতন্ত্র শুধু ছাত্রলীগে বিদ্যমান থাকবে?

সমগ্র জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হচ্ছে ছাত্ররাজনীতির সময়। এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে সাবেক হয়ে যাবে অনেক প্রতিভাবান তুখোড় ছাত্র নেতা। যারা নিজেদের ক্যারিয়ার ভবিষ্যৎ সবকিছু বিসর্জন দিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় যৌবনের উত্তাপময় সময় বিলিয়ে দিয়ে দলকে ভালোবেসে দায়িত্ব পালন করেছে শতভাগ নিষ্ঠার সাথে।

সম্মেলন হবার পর সাবেক এইসব নেতাদের দায়িত্ব কে নেবে? কোন সংগঠনে এরা জায়গা পাবে??? ছাত্রলীগের সাবেক তিন কমিটির কোন নেতা কোথায় আছে বর্তমানে??? কেউ কি খোঁজ রেখেছেন????

যদি খোঁজ না রাখেন, জবাব না থাকে ,তাহলে দয়া করে শুধু উপদেশমূলক বড় বড় কথার ফুলছড়ি ঝরাবেন না।

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিত প্রয়াসেই জাতীয় স্বার্থ অর্জনে প্রস্তুত থাকে ছাত্রলীগের কর্মীরা। বর্তমানে কিছু ব্যক্তি স্বার্থের ছাত্রনেতার কর্মকান্ড দেখলে কষ্ট হয়।

২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে আগামী নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামীলীগ ইতিমধ্যে পরিকল্পনা সাজানো এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। আর এই সময় ছাত্রলীগের সম্মেলন হলে তৃণমূল পর্যায়ে অনেক প্রভাব পড়বে। যা নির্বাচনের পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এমনকি, আগামী নির্বাচনে লড়াই কঠিন হবে ধরে নিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে।

আমরা ছাত্রলীগ আমরা জানি, দেশরত্ন শেখ হাসিনা ছাড়া আমাদের খোঁজ কেউই রাখে না, তাই ছাত্রলীগ আর দেশরত্ন শেখ হাসিনার মাঝে আমরা কাউকেই চাই না।

আমাদের কাছে দেশরত্নের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রই বরদাস্ত করবে না নেতাকর্মী। নির্বাচনী বছরে আচমকা ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘোষণা, নতুন কোনো ষড়যন্ত্র নয়তো?