লক্ষ্মীপুরে কিন্ডার গার্টেনের নামে রমরমা ব্যবসা : বেশির ভাগেরই নেই অনুমোদন

Print Friendly

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অস্থায়ী ভাবে দুই-একটি কক্ষ বিশিষ্ট ভবন ভাড়া করে লক্ষ্মীপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠছে প্রায় চার শতাধিক কিন্ডার গার্টেন ও ক্যাডেট মাদ্রাসা। যেখানে নেই মানসম্মত পাঠদানের সু-ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই খেলাধুলার মাঠ। কম্পিউটার আর টেলিভিশনই শিক্ষার্থীদের একমাত্র বিনোদনের ব্যবস্থা।
সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে এসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি, সেমিষ্টার ফি ও মাসিক ফি এর নামে কর্তৃপক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন থেকে কোন রকম ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে গড়া এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ শিক্ষার নামে চালাচ্ছে বাণিজ্য।
সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত তিনটি ছাড়া কোনটিরই নেই কোন অনুমোদন। নতুন করে কেউ কোন কিন্ডার গার্টেন আবেদনও করেননি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল। অনুমোদন হীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী তাদের। গত এক সপ্তাহর মধ্যে লক্ষ্মীপুর শহরে উদ্বোধন করা হয়েছে তিনটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রশাশনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়েই এসব প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ভাড়া ভবণে চলছে। তারা প্লে থেকে নার্সারি পর্যন্ত ভর্তি ফি নিচ্ছে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। মাসিক ফি নিচ্ছেন ৪শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। ওয়ান থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত ভর্তি ফি নিচ্ছেন ১৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা। মাসিক ফি নিচ্ছেন ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। আবাসিক-অনাবাসিক ও ডে-কেয়ারসহ বিভিন্ন অযুহাতে হাতিয়ে নিচ্ছে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর কাগজ-কলম, ডায়েরী, স্কুল ড্রেস প্রতিষ্ঠান থেকেই ক্রয় করে নিতে হয়। অন্য দিকে সরকার নির্ধারিত বইয়ের চেয়ে সবকয়টি প্রতিষ্ঠানে ২ থেকে ৬টি বই অতিরিক্ত পাঠদান করাচ্ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এদের অনেকেরই রয়েছে তথা কথিত ইংরেজী ভার্সন। প্রাথমিক পর্যন্ত চালু থাকলেও নিজেদের ইচ্ছেমত অধিকাংশরাই ব্যবহার করছেন স্কুল এন্ড কলেজ। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাতে গণা কয়েকটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানান অভিভাবকরা। জেলা শহরের মদিন উল্লা হাউজিংয়ে অবস্থিত ফায়ারফ্লায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক নাছির উদ্দিনের সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, ব্রিটিস কারিকুলামে পরিচালিত করছেন প্রতিষ্ঠানটি। তাই পরিচালনার জন্য পৌর ট্রেড লাইসেন্সটি নিয়েছেন শুধুমাত্র। এই প্রতিষ্ঠানে প্লে থেকে টু পর্যন্ত ভর্তি ফি নিচ্ছেন ৮হাজার ও মাসিক ফি ১৫০০ টাকা করে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, জেলার কিন্ডার গার্টেন গুলোর মধ্যে মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন রয়েছে। তবে সবগুলো কিন্ডার গার্টেনকে বই বিতরণ ও সমাপনি পরীক্ষার সময় ঐসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এবছর ২৫৮টি কিন্টার গার্ডেনকে বই বিতরণ করা হয়।
জানতে চাইলে জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, জেলায় তিনটি কিন্ডার গার্টেনের অনুমোদন আছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন নেই। আর কখনোই তারা অনুমোদনের জন্য আবেদনও করেনি। নিয়ম না মেনে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।