‘এতো ঠাণ্ডা মনে হচ্ছে পৃথিবীর বাইরে আছি’

Print Friendly

ঠাণ্ডা কাকে বলে টের পাচ্ছে ইউরোপ ও আমেরিকা। এই দুই মহাদেশে চলতি বছর যে ঠাণ্ডা পড়েছে তা ভেঙে দিচ্ছে কয়েক দশকের রেকর্ড। তবে তাপমাত্রা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি নেমে গেছে রাশিয়ার ইয়াকুটস্কে। সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাইনাস ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সেখানকার একজন বাসিন্দা মারি মেজের বলেন, তাপমাত্রা মাইনাস ৩০ বা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেলেও সেটা সহনীয়। কিন্তু মাইনাস ৪৭ বা ৫০ ডিগ্রিতে সেটা অনেক কষ্টকর।

তিনি বলেন, মনে হচ্ছে আমরা যেন অন্য দুনিয়ায় আছি। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকাও দায়। তবু জীবন থেমে নেই। চলছে আপন গতিতেই।খুব একটা ভালো নেই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও।হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। ঠাণ্ডায় দেশটির মিনেসোটা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, শিকাগো, কানসাস, পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্কের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।এর মধ্যে ‘আইসবক্স অব দ্য নেশন’ খ্যাত মিনেসোটার তাপমাত্রা নেমেছে সবচেয়ে বেশি। সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাইনাস ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।নিউ হ্যাম্পশায়ারের মাউন্ট ওয়াশিংটনের তাপমাত্রা নেমে এসেছে রেকর্ড মাইনাস ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ এলাকাটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ আবহাওয়ার’ বাড়ি বলা হয়।ওদিকে কানাডায় তাপমাত্রা মাইনাস ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে। যেটি গত ৫৭ বছরের মধ্যে দেশটিতে সর্বনিম্ন।  কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, কানাডার কিছু অংশে উত্তর মেরু বা মঙ্গল গ্রহের চেয়েও বেশি ঠাণ্ডা পড়েছে।বৃহস্পতিবার টরেন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগে ১৯৬০ সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মাইনাস ১৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।তবে সার্বিকভাবে কানাডার আবহাওয়ার অবস্থা খুবই খারাপ। এদিকে শুক্রবার দেশটির তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, টরেন্টো, ডারহাম, হালটন ও পিল অঞ্চলে বরফের সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাসও বইবে। যা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলবে সবাইকে।তারা আরো জানিয়েছেন, ২ জানুয়ারি এই অবস্থার খানিকটা উন্নতি হতে পারে। তখন তাপমাত্রা মাইনাস ৮ ডিগ্রি হবে বলে তারা পূর্বাভাস দিচ্ছেন।এদিকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শিকাগোতে গাড়ির ভেতরে থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর কানসাসে গাড়ি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসে ঠাণ্ডার কারণে মারা যাচ্ছে হাঙ্গর।অন্যদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র ঠাণ্ডা পড়ার পর টুইটারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ‘কিছু করা যেতে পারে’।এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতিকে ‘গালগল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি যুক্তরাষ্ট্র।