পর্ব (২) : লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয় : ভুক্তভোগী ও দালালদের সাথে আলাপন

Print Friendly

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোট অথরিটি (বিআরটিএ) লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের আশে পাশে অসংখ্য দালাল থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসমস্ত দালাল নিজেদের খুব ক্ষমতাবান মনে করেন। আজ শীর্ষ সংবাদ পাঠকদের জন্য রয়েছে বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের ভুক্তভোগী ও দালালদের সাথে তথ্য অনুসন্ধান মুলক আলাপন।

তথ্য অনুসন্ধানে ভ্ক্তুভোগী ও দালালদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, একটি সিএনজি অটোরিক্সা রেজিষ্ট্রেশন করতে ব্যাংকে সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরও অফিস খরচ হিসেবে নগদ ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয়। লাইসেন্স নবায়ন করতে ফিটনেস বাবত অতিরিক্ত ৮শ টাকা, রুট পারমিট বাবত ১হাজার টাকা, বাস, ট্রাক ও পিকাপএর ক্ষেত্রে ফিটনেস বাবত সাড়ে তিন হাজার টাকা, রুট পারমিট বাবত দেড় হাজার টাকা, পিকাপে ফিটনেস বাবত সাড়ে তিন হাজার টাকা, মালিকানা বদলীর ক্ষেত্রে দুই হাজার পাঁচশ টাকা, এন্ডুসমেন্ট নথিতে ৫হাজার টাকা, দূর্ঘটনার রিপোর্ট প্রদানকালে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। মটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেশন কালে অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা, মালিকানা বদলীর ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকা অফিস খরচ বাবত নগদ দিতে হয়। দালাল শিপন, কামাল উদ্দিন সহ অন্য দালালরা এর সত্যতা স্বীকার করেন। অপর দিকে এই অফিসের অফিস সহকারি আব্দুস সামাদকে লইসেন্স ও অন্য কাগজপত্র ডেলিভারী দেওয়ার সময় বকশিশের নামে আরো ৩শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। লাইসেন্স ও ডিজিটাল ব্লু বুক এর ছবি তোলার সময় ১শ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। মোটর সাইকেল ও সি এনজি অটো রিক্সায় নাম্বার প্লেট সংযোজন কালে ২শ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়।

ভুক্তভোগী নুর মোহাম্মদ জানান এই কর্মকর্তার যোগদানের পর দালালদের দৌরাত্ব ও ঘুষ দুর্নীতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। টেবিলে টেবিলে টাকা না চিটালে ফাইল চলে না। আলমগীর নামে আরেকজন জানায়, মোটার সাইকেলের লাইসেন্স করতে বিআরটিএ অফিসে গেলে শিপন নামে একজন ১৪ হাজার ৫শ টাকা দাবী করে। ব্যাংক জমা ও অফিস সহ যাবতীয় কাজ শিপনই করে দিবে।

অফিস সহকারি আব্দুস সামাদের নিকট জানতে চাইলে তিনিও শিপন নামের এক দালালের নাম উল্লেখ করে তার থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে বলেন।

দালাল শিপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল লাইসেন্স বাবত ১২ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। বাকি টাকা অফিস খরচ, এর মধ্যে আমার ভাগে ৫শ টাকা টিকে।

লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ অফিস প্রধান ও সহকারি পরিচালক আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার অফিসে কোন প্রকার ঘুষ ও দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ব নেইমর্মে দাবী করে জানান, তিনি এই অফিসে গত ১৮ জুলাই যোগদান করার পর থেকে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে দিয়েছেন। এই অফিস ঘুষ ও দালাল মুক্ত করে রাখা হয়েছে। দালালরা তার অফিসে আসতেই সাহস পাচ্ছে না। অথচ সেই সময়েও খোরশেদ নামে আরেক দালালকে তার কক্ষের বাইরে অফিস সহকারিদের সাথে কাজ করতে দেখা গেছে।