মাশরাফি কিছুতেই ৪ লাখ টাকা ফিরিয়ে নিতে চান না

Print Friendly
মাশরাফি কিছুতেই ৪ লাখ টাকা ফিরিয়ে নিতে চান নাফাইল ছবি

ঢাকা : দেশের গন্ডি পেরিয়ে পুরো ক্রিকেট দুনিয়ায় পরিচিত বাংলাদেশের ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি মাশরাফি বিন মুর্তাজা। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, কোনদিন ডিসিপ্লিন ভাঙার অভিযোগ উঠে নাই, একটা বিতর্ক হয়নি তাকে নিয়ে। নড়াইলের এই কৃতি সন্তান দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয়  ক্রীড়াবিদ। ক্রিকেটার পরিচয়ের পাশাপাশি একজন ভাল মানুষ হিসাবে ইতিমধ্যেই সমাদৃত হয়েছেন ম্যাশ।

মাশরাফি সতীর্থদের পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধবদের খোজ খবর রাখেন নিয়মিত। প্রয়োজনে সামর্থ অনুযায়ী সহায়তাও করে থাকেন। কিন্তু সেটি সকলের অগচরে। যেমন বন্ধু সৈয়দ রাসেল। এক সময় লাল সবুজের ক্রিকেট দলের মুল বোলারের ভুমিকা পালন করেছেন বাঁহাতি পেসার। দেশের হয়ে ৬ টেস্ট, ৫২ ওয়ানডে ও ৮ টি-টোয়েন্টি খেলা রাসেল অনেক দিন ধরেই জাতীয় দলে নেই।

২০১০ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা রাসেলের ক্যারিয়ার তাই ঘরোয়া ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু খেলাধুলা ছাড়া আয়-উপার্জনের আর কোন উৎস নেই জাতীয় দলের সাবেক এই পেসারের। চোটাক্রান্ত থাকা অবস্থায় কাঁধে অস্ত্রোপচারের জন্য চেয়েছিলেন বিসিবির সহায়তা। কিন্তু কিছুই করেনি দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি। যদিও একবার অনুদান দিয়েছিল বিসিবি।

এবার কাঁধে অস্ত্রোপচার করা লাগবে; সে জন্য দরকার অনেক টাকা। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অপারেশন করালে অন্তত আট লাখ টাকা দরকার। আর ভারতের মুম্বাইতে করলেও চার লাখের কমে হবে না। কিন্তু কোথায় পাবেন এ অর্থ? চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলেন। নিরুপায় হয়ে শেষমেষ বন্ধু মাশরাফির কাছে ধার চাইলেন সৈয়দ রাসেল। বললেন, ‘দোস্ত, আমি তো মাঠের বাইরে আছি বেশ কিছু দিন। হাতে টাকা পয়সাও নেই তেমন। আমাকে লাখ চারেক টাকা ধার দিবি চিকিৎসার জন্য?’

কোন কিছু না ভেভে মাশরাফির বললেন, ‘হ্যাঁ দেব। তবে ধার নয়। এটা বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা। এ অর্থ শোধ করতে হবে না।’ এভাবে বন্ধুকে ভালোবেসে চার লাখ টাকা সৈয়দ রাসেলকে দিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি। কিন্তু সে কথা কখনও প্রকাশ করেন নি মাশরাফি। এটাই হলো মাশরাফি।

বেশ কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে ঘরোয়া লিগে লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের হয়ে খেলতে চুক্তি করে রাসেল। সেখান থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে বন্ধুর ধার শোধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন রাসেল। মাশরাফি কিছুতেই আর সে অর্থ ফিরিয়ে নিতে চান না। জানান সৈয়দ রাসেল। সাবেক এই পেসার নিজেই প্রকাশ করে দেন বিষয়টি। বন্ধু হলে এমনই তো হওয়া চাই। মাশরাফি বলেই সেটি সম্ভব। দীর্ঘজীবি হন মাশরাফি।