ঠাকুর ঘরে কেরে ? আমি কলা খায় না : লক্ষ্মীপুর টিটিসিতে টাকায় মিলে সনদ

Print Friendly

1
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল (পত্রিকা) শীর্ষ সংবাদ ডটকমে “বিদেশগামীদের মাথায় হাত, লক্ষ্মীপুরে টাকায় মিলে সনদ!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে লক্ষ্মীপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) কর্তৃপক্ষের। সংবাদের সারমর্ম মিথ্যা প্রমাণিত করতে নামসর্বস্ত কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানের দ্বায়িত্বশীলরা। এদিকে খোদ অধ্যক্ষকে দেখা গেছে কয়েকটি স্থানে ধর্ণা দিতে। এই যেন ঠাকুর ঘরে কেরে ? আমি কলা খায় না। অপরদিকে শীর্ষ সংবাদে খবর প্রকাশের পর ওই প্রতিষ্ঠানটির দ্বায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, ভাউচার জালিয়াতি, তদবির, দালালি ও এলাকা ভিত্তিক সন্ত্রাসী বাহিনীর গ্রুপিং’এ সহযোগীতা করাসহ একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে।

জানা যায়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিদেশগামীদের তিনদিনের প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারীতে চালু হয়। এখানে বিদেশগামীদের কাঙ্খিত দেশের ভাষা, আইন-কানুন ও প্রাথমিক ধারণা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদিআরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান, ইউএই, কুয়েত, মালদ্বীপ, লেবানন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরগামীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৮’শ ৮৭ জন প্রশিক্ষণার্থীকে এ কেন্দ্রে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, লক্ষ্মীপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তিন দিনের প্রশিক্ষণ চাড়াই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশগামীদের সনদ দেওয়া হয়ে থাকে। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কয়েকজন চিহ্নিত দালাল রয়েছে। এসব দালালরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণ ছাড়া সনদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরা প্রথমত বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণ ছাড়াই সনদ নিতে প্রস্তাবনা দেয়। একপর্যায়ে দালাল চক্র অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রশিক্ষার্থীর কাছে কোন রকম প্রশিক্ষণ ছাড়া সনদ তুলে দেয়। অভিযোগ রয়েছে প্রতি সনদের বিনিময়ে ১ হাজার ১২শ’ টাকা প্রায় খোদ অধ্যক্ষ। বাকী টাকা চিহ্নিত দালাল চক্রের মাধ্যমে ভাগভাটরা হয়। দালাল চক্রের সদস্যরা হলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) এলাকার মনিরসহ অনেকেই।
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) দালাল চক্রের অন্যতম সদস্য মনির জানান, ভাড়তি ২-৩ হাজার টাকা দিলেই প্রশিক্ষণ ছাড়া সনদ দেওয়া যাবে। এর মধ্যে ভর্তি ফিসহ ১২শ টাকা অধ্যক্ষকে দিলেই চলে। তিনদিন পর আমরা নিজেরাই সনদ এনে ওই বিদেশগামীর হাতে তুলে দেই। এতে কোন সমস্যা হয় না।

রায়পুর বাজার এলাকার বিদেশগামী স্বপন প্রশিক্ষনের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসলে দালাল চক্রের এক সদস্য প্রশিক্ষণ চাড়াই তাকে সনদ তুলে দিবে বলে প্রবাহিত করে। এ সময় সনদ বাবদ তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয় দালাল। কথা হলে স্বপন জানায়, দ্রুত সনদ পেতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওই দালালকে ২ হাজার টাকা দিয়েছি।

লক্ষ্মীপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মির্জা ফিরোজ হাসান বিষয় গুলো অস্বীকার করে শীর্ষ সংবাদকে বলেন, আমাদের এখানে কোন দালাল চক্র নেই। কেউ সনদ পেতে হলে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নয়, নিয়ম অনুযায়ী ৩ দিনই ক্লাস করতে হবে।