রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের কাহিনী শুনলেন তুর্কি ফার্স্ট লেডি

Print Friendly

3

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে  সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার গেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার সঙ্গে রয়েছেন।বৃহস্পতিবার ‍দুপুরে একটি প্রাইভেট বিমানে তিনি কক্সবাজার পৌঁছান। এরপর তিনি কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন করে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের খোঁজ খবর নেন। এসময় রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তুর্কি ফার্স্ট লেডি।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩টার দিকে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তাকে স্বাগত জানান।কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ফোন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকেও হুঁশিয়ার করেছেন। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত শুক্রবার বিবৃতি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি একে ‘গণহত্যা’ বলেও উল্লেখ করেন।গত ২৫ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশন ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করলে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত শত শত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে এসেছেন।চলতি মাসের শুরুতে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। ঘোষণা দেয় অভিযানের। এরই মধ্যে গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বর্মি সেনাদের গণহত্যার বদলা নিতেই রোহিঙ্গা স্বাধীনতাকামীরা পুলিশ পোস্টে হামলা ও একটি সেনাঘাঁটিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে।